
বাগেরহাট সংবাদদাতা।। বাগেরহাটে ভংকর খুনি মিনা কামাল র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর ৫ টায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় খুলনা বিভাগের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী মিনা কামাল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে লাশ উদ্ধার করে রামপাল থানা পুলিশ।
সূত্র মতে, মিনা কামাল বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে যশোরের কেশবপুর এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আটক করা হয়।
খুলনার রূপসা উপজেলার ভয়ংকর এক খুনি-সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল (৫২)। তাঁর ভয়ংকর কর্মকাণ্ড খুলনার এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম।
দলীয় রাজনীতিতে পদ-পদবি না থাকলেও নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করতেন মিনা কামাল। ২৫টির বেশি (৯টি খুন) মামলা, শতাধিক জিডি রয়েছে।
মিনা কামাল নিজ বাড়িতে বিচারালয়ের নামে বসিয়েছিলো টর্চার সেল। সেখানে বিচার-সালিসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে চালানো হয় অবর্ণনীয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। বিচারের নামে হাতুড়িপেটা করে হাত-পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হতো। থেঁতলে দেওয়া হতো শরীরের স্পর্শকাতর স্থান। এসব অপকর্মে লিপ্ত তাঁর সহযোগী ২০ জনের অধিক সশস্ত্র বাহিনী।
মিনা কামাল ও তাঁর বাহিনীর হাতে গত ১০ বছরে দুই শতাধিক মানুষ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খুন হয়েছেন ৯ জন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১০ জন। ভয়ে-আতঙ্কে সহায়-সম্বল রেখে পরিবার নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে কয়েক শ পরিবার।
মিনা কামালের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিলো রূপসার ৫০ হাজার মানুষ। দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক বাণিজ্য করে গড়ে তুলেছে বিপুল অবৈধ সম্পদ।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশ র্যাপিড এ্যাকশন ব্যটালিয়ানের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়ে রামপাল থানায় সুরতহাল রিপোর্টের জন্য পড়ে আছে মিনা কামাল।